জেলা

১০ বছরে কোস্টগার্ড ও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি ভোলার দক্ষিণ দিঘলদীর কুখ্যাত দস্যু নুরু মেম্বারের কোটি টাকার বাগদার কারবার চলছেই

ভোলা থেকে মীর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন : ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আলোচিত ভূমি দস্যু ও জলদস্যু কুখ্যাত নুরু মেম্বারের কোটি কোটি টাকার বাগদা রেনু (চিংড়ি)’র পাচার করেই আসছে। এসব বাগদা পাচারের ব্যবসা ওপেন সিক্রেটভাবে করলেও ভোলার পুলিশ প্রশাসন ও কোস্টগার্ড বিগত ১০ বছরে একটি বারের জন্য তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে নুরু মেম্বার সরকারী চর দখল ও অবৈধভাবে বাগদা পাচারসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর অপরাধ সংঘটিত করে আসছে।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ দিঘলদী ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নুরু’র ভয়ঙ্কর অপরাধের তথ্য। এমন কোন অপরাধ বাদ নেই যা নুরু মেম্বার করেনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। সরকারী চর দখল, তেঁতুলিয়া নদীতে ডাকাতি ও চাঁদাবাজী, নারী ধর্ষণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর অপরাধ সংঘটিত করে সে এখন অর্ধশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অন্তরালে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্র-ছায়ায় নুরু মেম্বারসহ আরো কয়েকজন ইউপি সদস্য এসব অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ¯’ানীয়রা জানান, নুরু মেম্বারের অত্যাচারে শত শত কৃষক পরিবার জিম্মী থাকলেও তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। আইন-প্রশাসন-কোর্ট সবই তার পকেটে।

আরো জানা গেছে, নুরু মেম্বার এ পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় জেগে ওঠা সরকারী ১০ হাজার একর চর দখল করে নিয়েছেন। এসব চর থেকে বছর প্রতি ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন । শুধু সরকারী জমি-ই নয়, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপরও খবরদারী করছেন। নুরু মেম্বারের এই অত্যাচারের কারণে অনেক কৃষকরা জিম্মী হয়ে আছেন। তাদের ওই জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। যদিও চাষাবাদ করেন কৃষকরা, তখন তাদেরকে নুরু মেম্বারকে বিভিন্ন মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। চরের মধ্যে যারা গরু-মহিষ পালন করছে, তাদের কাছ থেকেও তিনি চাঁদা নিচ্ছেন । চাঁদা নিয়েও তিনি ক্ষান্ত হন না, মাঝে মধ্যে কৃষকদের গরু-মহিষ ডাকাতি করে নিয়ে যান।

সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে বাঘমারা ব্রীজে দর্শণার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে। জনৈক এক ভুক্তভোগী জানান, বাঘমারা ব্রীজে যে সমস্ত দর্শণার্থীরা ঘুরতে যান, সেখান থেকে অনেক দর্শণার্থীকে ডেকে পাশর্^বর্তী বাসা-বাড়ীতে নিয়ে অসামাজিক কার্যকলা করতে এসেছে এমন অভিযোগে তাদেরকে জিম্মি করে মোটা অংকের চাঁদাবাজী করছেন। তার এই চাঁদাবাজীর কারণে মান-সম্মানের ভয়ে বাঘমারা ব্রীজে দর্শণার্থী যেতেও রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *