রাজধানী

সাম্প্রতিক সমাজ বাস্তবতাকে তুলে আনতে হবে লেখকদের

চমক লাগে! এই ব্যস্ত সময়েও সাহিত্যের আড্ডা বসে নিয়মিত। প্রতিমাসে সেই আড্ডায় লেখকরা নিজেদের লেখা পাঠ করেন। শুনলে আরো অবাক লাগে সেই সাহিত্য আড্ডায় পড়া গল্পগুলো থেকে বাছাই করে প্রকাশিত হয়েছে গল্প সংকলন। কথাসাহিত্যের আড্ডা থেকে উঠে আসা গল্প সংকলন ‘পরণ কথা’র প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়ে গেল গতকাল। পরণ কথা সাহিত্য সংগঠনের মাসিক বৈঠকে পঠিত গল্পসমূহের মধ্যে নির্বাচিত লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সংখ্যাটি। শনিবার বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কথাশিল্পী রশীদ হায়দার, কথাসাহিত্যিক জাহানারা নওশিন ও ইত্তেফাক-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ‘অনন্যা’ সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও রাজনীতিক লেখক নূহ-উল-আলম লেনিন। আরো বক্তব্য রাখেন পরণ কথাসাহিত্য সংগঠনের সভাপতি ফরিদুর রহমান। উপস্থাপনা করেন পরণ কথার সম্পাদক সাহিত্যিক ঝর্না রহমান। আবৃত্তিকার জয়ন্ত রায়ের জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর গান গেয়ে শোনান স্বনামধন্য শিল্পী জিনাত রেহানা। সংকলনে প্রকাশিত গল্পের লেখকদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাহিত্যিক মণিকা চক্রবর্তী, উম্মে মুসলিমা প্রমুখ। তাসমিমা হোসেন বলেন, বাংলাদেশ খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাসহ নানা খাতে আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে। একইসঙ্গে সময়ের বাস্তবতায় অনেক সমস্যাও সৃষ্টি হচ্ছে। এখনকার লেখকদের লেখায় সাম্প্রতিক সেইসব সমস্যার বিষয়গুলো তুলে আনতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ের সমাজ বাস্তবতাকে তুলে আনতে হবে লেখকদের। তিনি বলেন, এখন সবাই ক্যারিয়ার, পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। আজকের এই সময়ে যারা লেখাকে জীবিকা করেন তাদের সম্মান জানাই। লিখে একটা সময়কে ধরে রাখা- এটা সহজ কাজ নয়, খুব বড় কাজ। যারা এ কাজ করেন তারা নমস্য। পাঠকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাসমিমা হোসেন আরো বলেন, নারীদের একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে ‘অনন্যা’ পুরস্কার শুরু করি। কিন্তু এত বছর পরেও অনন্যা পুরস্কার দেওয়ার জন্য যোগ্য নারী পেতে কষ্ট হয়। অনেক মেয়েই সাহিত্যের জগতে আসছেন। কিন্তু সেটা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। কথাশিল্পী রশীদ হায়দার বলেন, গদ্য লেখা হচ্ছে পাথরে শাবল চালানোর মতো কাজ। এটা ছেলেখেলা নয়। লেখককে পড়তে হবে, লেখককে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে উপলব্ধি করতে হবে। লেখকের অনেক শ্রম দিতে হয়। লেখকদের নিয়মিত লেখার অভ্যাস থাকা প্রয়োজন। নিয়মিত লেখার চর্চা না থাকলে অনেক সম্ভাবনাময় লেখকও হারিয়ে যান। তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা সাহিত্যের জগতে আসছেন। তাদের লেখার মানও অনেক ভালো। একটা সময় ছিল যখন ‘বেগম’ পত্রিকায় লেখা ছাপানোটাই খুব বড় সাফল্য ছিল। সেই তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। এটা সাহিত্যের জন্য খুব ইতিবাচক। নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, পরণ কথা সাহিত্য সংগঠন যেভাবে কাজ করছে এটা খুব ভালো উদ্যোগ, প্রশংসনীয়। আমরা যতই বিশ্বায়নের প্রভাবের কথা বলি না কেন, বইয়ের পাঠক কমেনি। মানুষের পাঠের আগ্রহ দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিশ্বজুড়েই গল্প-উপন্যাস পড়বার আগ্রহ রয়েছে পাঠকের। আর তা কমেনি এতটুকু। বইটিতে ২৭টি গল্প ছাপা হয়েছে। লেখকরা হলেন- জাহানারা নওশিন, হাসান আজিজুল হক, হোসেনউদ্দীন হোসেন, মাহবুব তালুকদার, সালেহা চৌধুরী, দিলারা মেসবাহ, ভাস্কর চৌধুরী, মিলা মাহফুজা, তাহমিনা কোরাইশী, আফরোজা পারভীন, নাসরীন নঈম, ফরিদুর রহমান, ঝর্না রহমান, উম্মে মুসলিমা, কামরুল হাসান, রোকেয়া ইসলাম, নাসিমা আনিস, লায়লা আফরোজ, কাজী লাবণ্য, মেহতাজ নূর, নূর কামরুন নাহার, মণিকা চক্রবর্তী, ম্যারিনা নাসরীন, সোলায়মান সুমন, আশরাফ জুয়েল ও মোজাফ্ফর হোসেন। বইটির দাম ২০০ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *