অফিস আদালত

সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি দুই বছরেও স্থগিতাদেশে ঝুলে আছে বিচার

সাভারের রানা প্লাজা ধসে নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর পেরিয়ে গেছে দুই বছর। কিন্তু এ সময়ে ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে একজনেরও সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায়নি। মামলার কার্যক্রমের ওপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার বিচার ঝুলে আছে। তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে জেলা জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হতে আইনগত বাধা দূর হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ইত্তেফাককে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের পিপি বিষয়টি যদি আমাদের নজরে আনেন তখনই আমরা এ ব্যাপারে আদালতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। কিন্তু আমাদের তো এ ব্যাপারে কিছুই অবহিত করেনি। যখনই অবহিত করবে তখনই আইন কর্মকর্তারা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।   ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে নয় তলাবিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক নিহত হয়। আর পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরো কয়েক হাজার শ্রমিক। ওই ভবন ধসে শ্রমিক হতাহতের ঘটনার ৫ বছর পূর্তি হচ্ছে আর দু’দিন পর। শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এসএম কুদ্দুস জামান। ওই অভিযোগ গঠন আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দশজন আসামি হাইকোর্টে আবেদন করেন। ওই আবেদনসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। পরবর্তীকালে হাইকোর্ট নয়জন আসামির স্থগিতাদেশের মেয়াদ না বাড়িয়ে আবেদন নাকচ করে দেয়। তবে মামলার অন্যতম আসামি সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী খানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রমের ওপর আগামী ১৫ মে পর্যন্ত হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আনোয়ারুল কবির বাবুল জানান, হাইকোর্ট যদি ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আর না বাড়ায় তাহলে পরদিনই এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।   প্রসঙ্গত এই হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ৫৯৪ জন। আর ৪১ জন আসামির মধ্যে দু’জন মারা গেছেন। তাদের মৃত্যু সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। আসামিদের মধ্যে সাতজন পলাতক রয়েছেন। অন্যতম আসামি রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা কারাগারে। বাকিরা জামিনে রয়েছেন। প্রায় ছয়শ জন আসামির সাক্ষ্য নিয়ে বিচার শেষ করতে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন নিহতের স্বজনরা। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ঘটনা প্রমাণের জন্য সকল সাক্ষীর সাক্ষ্য নিতে হবে এমন কোনো কিছু আইনে উল্লেখ নেই। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, আসামির সংখ্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *