রাজধানী

সাউন্ড ও লাইট ব্যবসায়ী সমিতির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

ঢাকা মহানগর কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি’র খিলগাঁও জোনের নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড মালিকদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি’র খিলগাঁও জোনের কমিটি ঘোষণা করা হয়।   সংশ্লিষ্ট খাতের প্রবীণ ব্যবসায়ী ‘তরঙ্গ সাউন্ড’র কর্ণধার এবং ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আক্তার হোসেন বলেন, ‘৪০ বছর ধরে চলতে থাকা সাউন্ড ও লাইট সংশ্লিষ্ট খাতে সেরকম কোনো সংগঠন তৈরি হয়নি। ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। আর্থিক সচ্ছলতার জন্য তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় না ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে। এই খাতে এখন পর্যন্ত বীমা ব্যবস্থা চালু হয়নি।’   তিনি আরও জানান, ঐক্যবদ্ধের কোনো বিকল্প নেই। এই খাতের জন্য যদি কিছু করতে হয় তাহলে সকলকে একত্রিত হতে হবে। মনে করতে হবে সমস্ত খাতটি একটি ছাতা আর প্রত্যেক কোম্পানির মালিক হলো এই ছাতার কাঠি। অর্থাৎ ৮টি কাঠির সমন্বয়ে যেমন একটি ছাতা পরিপূর্ণ হয় ঠিক তেমনি সকল সাউন্ড ও লাইট ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমাদের সংগঠন পরিপূর্ণ হতে হবে।   অনুষ্ঠানে কাজল এন্টার প্রাইজের কর্ণধার এবং মূল সংগঠনের উপদেষ্টা ওয়াসিম কবির কাজল বলেন, সারা দেশে প্রায় অগণিত সাউন্ড ও লাইট কোম্পানি রয়েছে। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রায় বহু পরিবার। ৪০ বছর ধরে চলতে থাকা এই খাতকে আর অনিশ্চয়তার খাত হিসেব চলতে দেয়া যায় না। এখনই সময় সবার একত্রিত হয়ে কিছু করার।   কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক এবং ড্রিম উইন্ডার এর কর্ণধার হাসান মাহমুদ হিমু বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে আমি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এসেছি। আজকের এই শৃঙ্খলপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি মুগ্ধ ও আনন্দিত। খিলগাঁও জোনকে যেভাবে সাজানো হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে অন্যান্য জোনগুলোকে সাজাতে হবে এবং এভাবেই আস্তে আস্তে সমস্ত ঢাকা শহরকে জোন ভিত্তিক সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। আশা করি একটা সময় সারাদেশে সকল লাইট এবং সাউন্ড কোম্পানির মালিকরা একসাথে কাজ করবে।   অনুষ্ঠানে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি’র খিলগাঁও জোনের সভাপতি লাইভ মিডিয়া’র কর্ণধার আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘আমরা এই খাতে অনেক সময় দিয়েছি। ১৯৮৬ সাল থেকে দাপটের সঙ্গে সাউন্ড ব্যবসা করে আসছি। এখানের উপস্থিত অনেকেই দাপটে ব্যবসা করেছেন এবং করছেন। আমরা এতোদিন একত্রিত হতে পারিনি তাই এতোদিন এই খাতের জন্য কিছুই করতে পারিনি। বর্তমানে আমাদের নেয়া উদ্যোগের মাধ্যমে এখন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সকলের একত্রিত হয়ে কাজ করার।’  তিনি আরো বলেন, ‘আমারা যদি একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই এই খাতে আবার স্বর্ণযুগের মুখ দেখতে পাবো।   খিলগাঁও জোনের সাধারণ সম্পাদক এবং সাউন্ড প্রোর’র কর্ণধার মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা একত্রিত হয়ে কাজ করতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি। অনেকবার উদ্যোগ নেয়া সত্ত্বেও তা সম্ভব হয়নি কতিপয় দুষ্টলোকের কারণে। আমরা ভালো মন্দ বুঝতে শিখেছি, এতো দিনে আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আশাকরি সবাই আমার কথা বুঝতে পেরেছেন। আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করি।’   এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, খিলগাঁও জোনের নতুন কমিটির সকল সদস্যসহ রামপুরা, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর জোনের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।   উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেছেন ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি’ খিলগাঁও জোন কমিটির কোষাধ্যক্ষ এবং সাউন্ড এক্সপ্রেস’র কর্ণধার রাশেদ শিবলী।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *