বাণিজ্য

সরকারি হাসপাতালের চাহিদা মিটিয়ে ওষুধ রপ্তানির টার্গেট

সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন ওষুধ সেক্টরে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে থাকবে। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের এসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের গোপালগঞ্জ কারখানার (তৃতীয় প্রকল্প) কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্ এই ওষুধ কারখানা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে সারাদেশে সরকারি হাসপাতালের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে ওষুধ রপ্তানির টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে।   সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় সরকারি এ ওষুধ কারখানা প্রকল্পের অভ্যন্তরে মাটি ভরাট, ভবনের সাজসজ্জার কাজ চলছে পুরোদমে। ইডিসিএল’র এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। প্রকল্পের বিশাল বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিশাল আয়তনের ক্যাম্পাসটির চারপাশে রয়েছে সুরক্ষিত সীমানা দেয়াল। ভবনসমূহের মূল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কক্ষ সমূহ সাজানোর কাজ চলছে। নির্মাণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে কয়েক শ’ শ্রমিক। বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ দ্বারা ক্যাম্পাসটি শোভাবর্ধন করা হয়েছে।   ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীতে ১০ একর জায়গার ওপর এসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের গোপালগঞ্জ কারখানা। ২০১৫ সালে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৭শ’কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরো ব্যয় বহন করা হচ্ছে সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে। প্রকল্পটিতে চারটি ইউনিট থাকবে, যার একটিতে তৈরি হবে পেনিসিলিন, অপরটিতে হরমোন ইনজেকশন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি। তৃতীয়টিতে স্যালাইন ও চতুর্থটিতে আয়রন ট্যাবলেট। এখানে ২১টি ভবনের কাজ চলছে, এর মধ্যে ১২টি ভবনের কাজ প্রায় শেষের পথে। এ প্রকল্পটি চালু হলে এখানে ৭৭৮ জন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এটি চালু হলে সরকারি   হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ইডিসিএল শতভাগ ওষুধ সরবরাহ করতে পরবে।   সরকারের শতভাগ মালিকানাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন একমাত্র রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। বর্তমানে ইডিসিএলের ঢাকা ও বগুড়ায় দুটি কারখানা এবং খুলনায় একটি ল্যাটেক্স প্ল­্যান্ট রয়েছে। গোপালগঞ্জের কারখানার উদ্বোধন করার প্রস্তুতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট প্রকল্পটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। মন্ত্রী ঘুরে ঘুরে নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেন এবং তা দ্রুত নির্মিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইত্তেফাককে জানান, এ প্রকল্প চালু হলে এখান থেকে উত্পাদিত ওষুধ সারাদেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হবে। চলতি মাসের যেকোন দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন ওষুধ সেক্টরে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিবে।   ইডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুল জানান, সরকারের চলমান স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরো বেশি গতিশীল এবং জোরদার করার লক্ষ্যে এবং সরকারী অর্থ সাশ্রয় করে বিদেশে ওষুধ রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের উদ্দেশে এই প্রকল্পটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  প্রকল্পটির প্রকৌশলীরা জানান, স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা-খুলনা বিশ্বরোডের একেবারে পাশে এবং পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এখান থেকে ঢাকার দূরত্ব হবে মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের।   প্রসঙ্গত, ইডিসিএল’র উত্পাদিত ওষুধ সরকারী হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিক ছাড়াও বিজিবি ও সেনাবাহিনীতে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি করা হচ্ছে ইডিসিএলের ১১ প্রকারের ওষুধ। ভুটান, সিঙ্গাপুরসহ আরও কয়েকটি দেশে ইডিসিএল’রর ওষুধ রপ্তানির প্রস্তুতি চলছে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *