অফিস আদালত

সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব পালন নিশ্চিতের চেষ্টা করব


সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সুপ্রিম কোর্ট যেন সংবিধান অনুসারে তার নিজ দায়িত্ব পালন করে সেটি নিশ্চিতের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশের ২২ তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, আমাদের এমনভাবে আদালতের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হবে যে আদালত অঙ্গনে প্রবেশের সাথে সাথে শক্তিমান-দুর্বল, ধনী-গরীব সকলের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মে যে তারা সকলেই সমান এবং আদালতের নিকট হতে শুধুমাত্র আইন অনুযায়ী তারা ন্যায় বিচার পাবেন। এতে করে আদালতের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা দৃঢ় হবে। গতকাল রবিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি জয়নুল আবেদীনের দেওয়া সংবর্ধনার জবাবে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতির এজলাসে গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্টের বিচারপতি, সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ-রাষ্ট্রের এই তিনটি অঙ্গের পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবলমাত্র একটি দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে। যেখানে তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকে, সেখানে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। এই তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে যেন সমন্বয় রক্ষা করা যায় সেজন্য আমি সব সময় চেষ্টা করব। তিনি বলেন, বিচারকের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সততা। তার জবাবদিহিতার জায়গা হচ্ছে নিজের বিবেক। সংবিধান ও দেশের আইন  তার একমাত্র অনুসরণীয়। আর শপথকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে কারো প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে বিচার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে তার দায়িত্ব। বিচারক যদি শুধুমাত্র তার শপথ অনুযায়ী বিচারকাজ পরিচালনা করেন তাহলে তার জন্য অনুসরণীয় আলাদা আচরণবিধির তেমন প্রয়োজন হয় না। আমি আশা করব আমার সহকর্মী সকল বিচারক সব সময় তাদের শপথের মূল বাণী হূদয়ে প্রোথিত করে জনগণ ও মানবতার কল্যাণে সংবিধানকে সামনে রেখে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন। আবার বিচার শুধু করলেই হবে না এমনভাবে বিচার করতে হবে যেন সকল পক্ষই নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে সুষ্ঠু ও নিশ্চিতভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৯৫(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগের আইন প্রণয়ন অপরিহার্য বলেও জানান তিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলা জট আমাদের জন্য বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হবে বারের সক্রিয় সহযোগিতা। বলা হয়ে থাকে বার ও বেঞ্চ একই পাখির দুটি ডানা। একটির অভাবে অন্যটি অচল। তাই মামলা জট আজ শুধু আদালতের একার সমস্যা নয়, এটি বারের জন্যও অস্বস্তির কারণ। মামলার পাহাড় যত জমতে থাকবে আদালতের সাথে সাথে বারের প্রতিও তেমনি বিচারপ্রার্থী মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা কমতে থাকবে। তাই এই সমস্যা সমাধানে বারকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেই উদ্যোগে ডিজিটাল বিচার বিভাগের ধারণা আরো গভীরভাবে সম্পৃক্ত থাকবে এবং অচিরেই আমরা তথ্য প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে মামলা জট সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনতে পারব। তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্ব ও মহান আত্মত্যাগের ফসল আজকের বাংলাদেশ। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল ৭ কোটি মুক্তিকামী বাঙালিদের। ১৯৭১ সালে ত্রিশ লক্ষ শহীদের তাজা প্রাণের রক্ত নহর আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের মূল্যে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ লাভ করে আমি ধন্য ও গর্বিত। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা অর্পণ বিচারকাজ পরিচালনা শেষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এরপর বিকালে সাভারে গিয়ে জাতীয় জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় আপিল বিভাগের অপর তিন বিচারপতি ছাড়াও রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *