প্রবাস

‘রোহিঙ্গা সমস্যায় উদ্ভূত দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিতে হবে’


'রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে এগিয়ে না আসলে উদ্ভূত দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই বহন করতে হবে'- আজ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদের সাথে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে একথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।   নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যে সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে পররাষ্ট্র সচিব মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা প্রদান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও এর টেকসই সমাধানের উপর 'রোহিঙ্গা হিউম্যানিটারিয়ান ক্রাইসিস: বাংলাদেশ রেসপন্স' শীর্ষক একটি বক্তব্য প্রদান করেন। এতে উঠে আসে অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে উদার মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা এবং দেশবাসীকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানসহ অন্যান্য বিষয়গুলো।   এই মানবিক আশ্রয় প্রদানের ফলে বাংলাদেশ যে নিরাপত্তা, আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তা সবিস্তারে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব। কোনো বিশেষ মহল যাতে রোহিঙ্গাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে না পারে সেদিকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে মর্মে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি এ সঙ্কটের সমাধানে সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে উল্লিখিত ৫ দফা সুপারিশের পুনরুল্লেখ করেন। এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে মর্মেও তিনি জানান। এসংক্রান্ত বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি দাবী করেন। পররাষ্ট্র সচিব জানান, বর্তমানে এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিজভূমিতে নিরাপদে, নিরাপত্তার সাথে এবং পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। নিজভূমিতে প্রত্যাবর্তন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা এবং এই সমস্যার টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের উপর অব্যাহত চাপ প্রদানের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।   প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে উপস্থিত রাষ্ট্রদূতদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবেই কারণ এ সমস্যা তাঁদেরই সৃষ্টি এবং মিয়ানমারই রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি।   অনুষ্ঠানটিতে ভারত, রাশিয়া, চীন, নেদারল্যান্ড, পেরু, পাকিস্তান, সৌদিআরব, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ওমান, সিঙ্গাপুর, ভ্যাটিকান, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়াসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ওআইসি’র রাষ্ট্রদূত ড. আগশিন মেহ্দিয়েভ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *