রাজনীতি

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে বলছি না। তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়ে পরবর্তীকালে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করা হোক। রোহিঙ্গা সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। এই নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চাই এ সংকট মোকাবিলা করতে হলে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কারণ এটা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর আগ্রাসন।   সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।   মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্ব বিবেক যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে যখন জাগ্রত। তখন সরকার কোনো প্রকার প্রস্ততি গ্রহণ করেনি। আমরা যখন কথা বলতে শুরু করেছি। তখন তারা বলতে শুরু করেছে। আমরা নাকি রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি করছি। একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা কোনো রাজনীতি করতে চাই না।   তিনি বলেন, দেশে মানুষ যখন প্রস্ততি নিচ্ছে একটি নির্বাচনের জন্য। সেই নির্বাচনী আওয়াজ শুনতে পেরে সরকার তাদের লোকেরা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের বন্দি করে নির্বাচনী কৌশল এখন থেকেই গ্রহণ করেছে। কিন্তু দেশের তা কখনই মেনে নিয়ে না। জনগণ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রস্ততি নিচ্ছে।   স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা অধীনে নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না। নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। এ নির্বাচন এত সহজে আদায় হবে না। তাই কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্ততি নিতে হবে।   রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যে চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তির মাধ্যমেই মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিতে হবে। যাতে রোহিঙ্গারা ফিরে গিয়ে মিয়ানমারে নাগরিকত্ব পান।   স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেরিতে হলেও সরকারের কয়েকজন রোহিঙ্গাদের দেখতে যাচ্ছেন। ভালো কথা, আমরা জানি না তারা সেখানে কী করবেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই- আগামী দিনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে দেশের জনগণ সেই নির্বাচন মেনে নেবেন না। হতে দেবে না।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *