বাণিজ্য

রপ্তানির কর বাড়ানোর চিন্তা করছে না এনবিআর

সব ধরণের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুন্য দশমিক সাত শুন্য শতাংশ (০.৭০%) ভ্যাট আগামী বাজেটে বাড়ানোর চিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। গতকাল বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত রপ্তানিখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।   তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে  যে পরিমাণ অর্থ প্রত্যাবাসন হয়, তার উপর কর আরোপ না করে মূল রপ্তানির উপর এই কর আরোপ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য এর বিরোধিতা করেছেন রপ্তানিকারকরা। সেই সঙ্গে রপ্তানির বিদ্যমান কর কমিয়ে শুন্য দশমিক পাঁচ শুন্য শতাংশ (০.৫০%) করার প্রস্তাব করেছেন তারা।   বাজেটের আগে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানি খাতের সঙ্গে আলোচনায় নির্ধারিত ছিল। তবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র নেতারা আলোচনা উপস্থিত না হলেও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশ অব বাংলাদেশের (ইএবি) প্রতিনিধি হিসেবে তৈরি পোশাক উদ্যোক্তা ও বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আলোচনায় অংশ নেন। তিনি বর্তমানে গার্মেন্টস খাতের নানামুখী সম্যার চিত্র তুলে  ধরেন। আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দর কমে যাওয়া, স্থানীয়ভাবে উত্পাদন খরব বাড়াসহ বেশকিছু সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে অন্তত ৮০ শতাংশ পোশাক কারখানা লোকসান দিয়ে চলছে।   আলোচনায় বন্ডেড প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর অডিট না করে দুই বছরে একবার অডিট করা, রপ্তানিখাত ভ্যাটমুক্ত হওয়া সত্বেও যোগানদারসহ বেশকিছু খাতের উপর অতীত ভ্যাট দাবি করা, রপ্তানি পণ্য ফেরত আসার ক্ষেত্রে বন্দরের শুল্ক বিভাগ কর্তৃক হয়রানিমূলক আচরণ, সড়কে রপ্তানিবাহী গাড়ি আটকে তল্লাশির নামে হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করে এর প্রতিকার চান। এসময় তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘বিবিধ ব্যয়’ নামে একটি খাত থাকে। এটি আসলে ঘুষ। বিবিধ ব্যয় হওয়ায় এর উপরও ভ্যাট দাবি করা হয়। অর্থাত্ ঘুষের উপরও ভ্যাট দিতে হয়! উেস ভ্যাট থেকে মুক্তি দিতে এনবিআরের একটি আদেশ জারি করার দাবিও জানান তিনি।   আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিংক ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি আব্দুল কাদের খান এ খাতের সদস্যদের বার্ষিক আমদানি প্রাপ্যতা ইস্যু করার ক্ষমতা সংগঠনটির উপর ন্যাস্ত করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া কারখানা প্রাঙ্গণকে বন্ডেড অয়্যারহাউজ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া, পারচেজ অর্ডারের ভিত্তিতে পণ্য সরবরাহের অনুমতি দেওয়া, রপ্তানির কর কমানো ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন।   এনবিআর চেয়ারম্যান বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে এনবিআরের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণ কাপড় এনে বাইরে বিক্রি করে দেন। ফলে স্থানীয় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য পরিদর্শন করতে হয়। এছাড়া রপ্তানিপণ্য ফেরত আসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনগত জটিলতা সমাধানেরও আশ্বাস দেন তিনি।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *