বাংলাদেশ

মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতাকে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ফল উল্লেখ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের পূর্ণ তদন্তের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এ আহবান জানান।   এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকালে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার গভীর রাতে) নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রথম বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, রাখাইনে সহিংসতা মানবাধিকারের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। তিনি পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে কোনো বৈষম্য-ছাড়াই নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতিও আহবান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভালো ভাষায় বলার সময় শেষ হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রাখতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। তবে বৈঠকে জাতিগত নিধন অভিযান এবং গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। আর চীন, রাশিয়া ও জাপান মিয়ানমারের পক্ষালম্বন করে বলেছে, এখনই দেশটির ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ ঠিক হবে না। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে।   কয়েক দিন আগে নিরাপত্তা পরিষদের ৭টি সদস্যরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সেনেগাল, মিশর, সুইডেন, ফ্রান্স ও কাজাখস্তান জাতিসংঘ মহাসচিবকে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতির উপর নিরাপত্তা পরিষদে এই বিবৃতি প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছিল। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতির পর নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি স্থায়ী-অস্থায়ী সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তিনটি দেশ ছাড়া বাকি সদস্যরা রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ ও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহবান জানান। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভিন্ন অবস্থানের কারণে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে জাতিসংঘের শক্তিশালী এই পরিষদের। এমনকি কোনো যৌথ বিবৃতিও আসেনি। নতুন করে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর এর আগে দুই দফা বৈঠক হয়েছে নিরাপত্তা কাউন্সিলে। সর্বশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর বৈঠকে রাখাইনে সহিংসতার জন্য বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানানো হয়। এ ধরনের বিবৃতিকে নিরাপত্তা পরিষদের সবচেয়ে দুর্বলতম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।   মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত মানবিক বিপর্যয় ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, গত তিন দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আন্তর্জাতিক চাপ সরে গেলে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা গতি হারিয়ে ফেলে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংসতা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। রাখাইনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পূর্ণ তদন্ত করা জরুরি। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন সরেজমিনে দেখতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং মিয়ানমার সফরের আহ্বান জানান তিনি।   রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রতিদিন রোহিঙ্গারা আসছে। বুধবার রাতেও ২০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। রাখাইনে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে, হত্যার মতো অপরাধ করা হচ্ছে, যাতে রোহিঙ্গারা রাখাইন থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার জাতিগত নিধনযজ্ঞের বড় উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে। রাখাইনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে উল্লেখ করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ওপর জোর দেন তিনি। বাংলাদেশের দূত বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের মিয়ানমার অবৈধ বাঙালি অভিবাসী হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই মিথ্যাচারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয়কে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে মিয়ানমার। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, আগস্টের শুরু থেকেই দুই ডিভিশনের বেশি মিয়ানমার সেনা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে। অন্তত ১৯ বার মিয়ানমার হেলিকপ্টার ও ড্রোন বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে, সীমান্তে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, এমনকি বাংলাদেশের একজন জেলেকে তারা হত্যা করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ভালো প্রতিবেশী হিসেবে সংযমের পরিচয় দিচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ দফা প্রস্তাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংকট মিয়ানমারে সৃষ্ট এবং তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। অবিলম্বে সহিংতা থামাতে হবে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো ও আনান কমিশনের রিপোর্টেও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।   রাখাইনে সহিংসতা মানবাধিকারের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে:জাতিসংঘ মহাসচিব   নিরাপত্তা কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, মিয়ানমারের সহিংসতা মানবাধিকারের জন্য দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের দ্রুততম শরণার্থী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তার বক্তব্যে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং সেখানে মানবিক সহায়তার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে কোন বৈষম্য ছাড়াই নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতিও আহবান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা মিয়ানমারের অন্য এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার আহবান যুক্তরাষ্ট্রের   মিযানমারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করতে নিধনযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ তুলে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে বলেন, রাখাইনে রক্তপাত অং সান সু চির সরকারকে কলঙ্কিত করেছে। এই সহিংসতার জন্য মিয়ানমার সেনা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডকে একটি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে অব্যাহত নৃশংস অভিযান নামে অভিহিত করার ক্ষেত্রে আমরা ভীত হতে পারি না। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভালো ভাষায় বলার সময় শেষ হয়েছে। মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, তাদের নির্দেশনা দেয়ার মতো দায়িত্বশীল পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। চাপ প্রয়োগে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ রাখার আহবান জানান তিনি।   রাখাইনে জাতগত নিধনযজ্ঞ বন্ধের আহবান ফ্রান্স-সহ অন্য সদস্য দেশের   নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ফ্রান্সের প্রতিনিধি বলেন, মিয়ানমারে এখন জাতিগত নিধন চলছে। এক মাসের মধ্যে ৫ লাখের বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা দীর্ঘায়িত হবে। সংকট সমাধানে জাতিসংঘের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা জরুরি বলে জানান তিনি। সংকটে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশের প্রশংসা করে ফরাসি প্রতিনিধি।   রাখাইনের সহিংসতাকে অগ্রহণযোগ্য ট্রাজেডি বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে দেশটি সু চির সরকারকে সহিংসতা বন্ধ করে মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   বৈঠকে সেনেগালের প্রতিনিধি বলেন, আমরা মিয়ানমারের সহিংসতার নিন্দা জানাই। জাতিসংঘসহ সব ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এই পরিস্থিতির অবসানে উদ্যোগ নিতে হবে। বৈঠকে মিশরের প্রতিনিধি বলেন, রোহিঙ্গারা হত্যাযজ্ঞের শিকার হচ্ছেন। নিজ দেশের মানুষকে রক্ষা করা প্রতিটি দেশের সরকারের দায়িত্ব। এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হচ্ছে মিয়ানমারকে তার বেসামরিক জনগণের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে চাপ দেওয়া।   আলোচনায় সুইডেনের প্রতিনিধি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন বিপর্যয়কর অবস্থায় পৌঁছে গেছে। আমরা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সামরিক বাহিনীর অভিযান, সব রকমের সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধের আহ্বান জানাই। এ সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাখাইনে শান্তি ফেরাতে মিয়ানমার সরকারকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।   কাজাখস্তানের প্রতিনিধি বলেন, রাখাইন রাজ্যের চলমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সরকারের ভূমিকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে সন্ত্রাসবাদ উসকে দিতে পারে। রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাগুলো যেন নিরাপদে রাখাইনে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।   ইতালির প্রতিনিধি বলেন, আমাদের সামনে সুযোগ রয়েছে মিয়ানমারের এই সংকট নিরসনের। সেই সুযোগ নিতে না পারলে তা হবে দুঃখজনক। এই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।   উরুগুয়ের প্রতিনিধি বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন অন্যান্য সন্ত্রাসী দলগুলোকেও উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে আল কায়েদা বা আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোকে এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে উত্সাহিত করতে পারে।   মিয়ানমারে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে বৈঠকে মন্তব্য করেন ইথিওপিয়ার প্রতিনিধি। তিনি বলেন, সংকট নিরসনে আসিয়ান সদস্যদের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলিভিয়ার প্রতিনিধি বলেন, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিগত পরিচয় ভুলে সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।   জাতিগত নিধন অভিযানের কথা অস্বীকার মিয়ানমারের   নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও স্টেট কাউন্সেলরের বিশেষ দূত ইউ থাঙ্গ তুন রাখাইনে জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, যা হচ্ছে তা জঙ্গিবাদের কারণে ধর্মের কারণে নয়। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে নিয়ে যায় এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মিয়ানমারের দূত আরো বলেন, জঙ্গিদের কারণে মানুষের মনে যে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে তার কারণেই তারা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। আগামী সোমবার সাংবাদিকদের নিয়ে কূটনীতিকরা রাখাইনে যাবেন বলে তিনি জানান।   চীন, রাশিয়া ও জাপান আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে   নিরাপত্তা পরিষদের ১২টি দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও চীন, রাশিয়া ও জাপান মিয়ানমারের পক্ষালম্বন করেছে। যদিও তারা সহিংসতা বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছে। বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেজিয়া মিয়ানমারের ওপর অতিমাত্রায় চাপ প্রয়োগের ব্যাপারে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এর ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। উন্মুক্ত বৈঠকে তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক পন্থায় রাখাইনে সংকট নিরসনে এগোতে হবে। সকল পক্ষের আলোচনায় বসতে হবে। সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা সীমান্তের হিন্দুদেরকে তাদের সঙ্গে পালাতে বাধ্য করছে। আর সন্ত্রাসীরাই সব গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে।   জাতিসংঘে চীনের উপ-রাষ্ট্রদূত উ হাইতাও সহিংসতা নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই সংকটের সহজ কোনো সমাধান নেই। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে মতভিন্নতা চলে আসছে। মিয়ানমারে শান্তি স্থাপনে চীন সহায়তা করছে। উত্তেজনা প্রশমনে, মানবিক পরিস্থিতির উন্নতিতে এক এক করে সকল পক্ষে গঠনমূলকভাবে কাজ করা উচিত।   বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাধর দেশগুলোর মত-পার্থক্যের জন্য শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষ হয়েছে। তবে সিএনএন এর এক খবরে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের ওপর ধৈর্যহারা হয়েছে নিরাপত্তা কাউন্সিল।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *