রাজনীতি

ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হাস্যকর : রিজভী

  বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা শুধু দেশে নয়, বিশ্ববাসীর কাছে হাস্যকর বলে গণ্য হয়েছে। দেশবাসী বিস্ময়ে বাক্যহারা। আমরা বলতে চাই, মিথ্যাচার করে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।   আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।   রিজভী বলেন, ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতার হত্যার পর নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন, তারাই নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে ধ্বংস করেন। দিনের পর দিন আন্দোলন-সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক ধারাটা আবার ফিরিয়ে এনেছি। আজ নির্বাচন যত সুষ্ঠু হচ্ছে, মানুষ ভোট দিতে পারছে-এটা আমাদের অবদান। মানুষ তার পছন্দমতো লোককেই নির্বাচন করবে। আমরা সেটাই চাই। নির্বাচন প্রক্রিয়া আমরাই উন্নতি করেছি।’   এ বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে বলতে চাই- তাহলে বাকশাল নামক জিনিসটি কী? আসলে শেখ হাসিনার সংজ্ঞানুযায়ী, গণতন্ত্র বলতে বুঝতে হবে সব দলের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিয়ে, একক কর্তৃত্বে একমাত্র দল দেশ চালাবে। ভিন্ন মত থাকবে না, গণমাধ্যম সম্পূর্ণরুপে নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নির্বাচনের অর্থ হবে ভোটকেন্দ্র ভোটারবিহীন শ্মশানভূমি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীবিহীন নির্বাচন।’   তিনি বলেন, ‘এই সংজ্ঞার সাথে একমতকারীদেরকেই প্রকৃতপক্ষে জনগণ বলে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন। সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণকারীদের তিনি জনগণের অংশ বলে মনে করেন না।’   রিজভী বলেন, ‘২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত তাদের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে সবগুলোই ছিল নিখুঁত সরকারি সন্ত্রাসনির্ভর। জোর করে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জালভোট প্রদানসহ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক নির্বাচনে পারদর্শী আওয়ামী লীগ। বারবার বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে করা হয়েছে সরকারের রাবারস্ট্যাম্প।’   ‘আমরা বলতে চাই, মিথ্যাচার করে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। হাসিনা মার্কা নির্বাচনের আরেকটি জলন্ত উদাহরণ গতকালই প্রমাণিত হয়েছে।’-বলেন রিজভী।   উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলাধীন নবগঠিত কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন কসবা উপজেলার খারেরা ইউনিয়ন এবং রংপুর জেলাধীন পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ও রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম ও বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ভোটারদের মধ্যে চরম ভীতির সৃষ্টি করে। সকাল থেকেই তিন জেলার নির্বাচনী এলাকাগুলোর সব ভোটকেন্দ্র পেশীশক্তির জোরে দখলে নিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। প্রতিপক্ষের এজেন্টদের মারধর করে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উত্থাপন করলেও তারা এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া দুরে থাক, সম্পূর্ণভাবে নিরব ও নির্বিকার থেকেছে।’   ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই’-বলেন তিনি।   তিনি বলেন, ‘আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) পাইকারিতে প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এসব প্রস্তাব ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষ করেছে। এ নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে গণশুনানি। শুনানি শেষে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিইআরসি তাদের সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানা গেছে।’   তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যে হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কার্যকর করা হলে শিল্প-কারখানা ধ্বংস হয়ে যাবে। মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে লাখ লাখ চাকরিজীবী বেকার হয়ে যাবে। সাংবাদিক বন্ধুগণ, বিদ্যুৎ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি হলে এর চেইন রিঅ্যাকশনে শিল্প উৎপাদন, শিল্প বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন, মানুষের গৃহস্থালিসহ ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিতে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ।’   রিজভী আরও বলেন, ‘২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ বছরে পাইকারি পর্যায়ে ৫ বার এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ। পুনরায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং অবিলম্বে এ ধরনের উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *