ফিচার্ড পোস্ট

বাসের আগাম টিকিট বিক্রি ৩০মে থেকে শুরু

আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে সড়ক, মহাসড়কের অবস্থার চেয়ে বৃষ্টির আশংকায়  ভুগছেন পরিবহন মালিকরা। বৃষ্টি হলে কোন কিছুই আর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। আর বৃষ্টির কথা মাথায় রেখেই এবার আগে থেকেই আগাম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের জন্য ৩০মে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করবেন পরিবহন মালিকরা।     এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও সোহাগ পরিবহনের এমডি সোহেল তালুকদার।    তিনি জানান, প্রথম দিন বিক্রি হবে ৭ জুন যাত্রার টিকিট। এ ব্যাপারে দূরপাল্লাগামী পরিবহনগুলোর মালিকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজধানীর তিনটি বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী থেকে দূর পাল্লার বাস চলাচল করে থাকে। উল্লেখ্য, ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১ জুন থেকে। তবে বিআরটিসির বাসের আগাম টিকিট বিক্রির ব্যাপারে কোন সিন্ধান্ত হয়নি।    সোহেল তালুকদার জানান, পরিবহন কাউন্টারগুলো ৩০ মে বুধবার থেকে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করবে। যাত্রীদের চাহিদা অনুসারে কাউন্টারে যতক্ষণ টিকিট থাকবে ততক্ষণ বিক্রি চলবে।   অপরদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ  জানিয়েছেন, মহাখালী বাস টার্মিনালে বাসের আগাম টিকিট দেয়ার ধরা-বাঁধা নিয়ম নেই। যে কোন কোম্পানি চাইলে যে কোন সময় আগাম টিকিট বিক্রি করতে পারবে।    হানিফ পরিবহনের হানিফ পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার মোশারফ হোসেন বলেন, আগাম টিকিট বিক্রির প্রস্তুতি শুক্রবার থেকে শুরু করা হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, এবার বেশি চাহিদা হবে ১২ থেকে ১৪ জুনের যাত্রার টিকিটের।   তিনি বলেন, এবারও টিকিট নিয়ে মানুষ খুব একটা ভোগান্তিতে পড়বেন না। তবে তিনি বলেন, দেশের চার মহাসড়কে অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী ৮ জুনের মধ্যে রাস্তা মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আশা করা যাচ্ছে ঈদ যাত্রার আগেই সড়কের বেহাল অবস্থার কিছুটা হলেও অবসান হবে। কিন্ত আমরা সড়কের বেহাল অবস্থার চেয়েও বেশি সংশয়ে আছি বৃষ্টি নিয়ে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষদের পড়তে হবে চরম ভোগান্তিতে।    বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রমেশ চন্দ্র ঘোষও একই আশংকার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি টিকিট প্রাপ্তির ব্যাপারে জানিয়েছেন, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সংগঠনের পক্ষ থেকে এবার বাসের আগাম টিকিট বিক্রির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি।    তিনি আরও বলেন, এখন তো অনেক পরিবহন অনলাইনে টিকিট বিক্রি করছেন। ফলে টিকিট প্রাপ্তিতে কোন সমস্যা হবেনা আশা করা যাচ্ছে।    বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি সহ-সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহম্মেদ মজুমদার বলেন, দেশের চার মহাসড়কের মধ্যে সব বেশি সমস্যা রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে। সড়কে খানাখন্দ খুব একটা না থাকলেও নির্মাণ কাজের জন্যই বেশি দিন ধরে এমনিতেই লেগে আছে তীব্র যানজট। এরফলে সময় মত পণ্য পৌঁছানো যাচ্ছেনা চট্টগ্রাম বন্দরে। অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে গাজীপুরের নির্মাণ কাজের জন্য লেগে থাকছে যানজট। তবে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-যশোর রুটে অবস্থা কিছুটা ভালো। ঈদ যাত্রার আগেই সড়কের উন্নতি হবে। কিন্তু এরপর সব কিছু নির্ভর করছে বৃষ্টির ওপর। ঈদ যাত্রায় বৃষ্টি থাকলে ঘরে ফেরা মানুষকে পোহাতে হবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *