রাজধানী

বাবা-মা হারিয়ে বাকরুদ্ধ মাহি

পাইলট আবিদ সুলতান ও আফসানা খানম টপির একমাত্র পুত্র তানজিব বিন সুলতান মাহি। উত্তরার মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’লেভেলের ছাত্র। মাত্র এগারো দিনের ব্যবধানে বাবা-মা হারিয়ে বাকরুদ্ধ।    মা-বাবার মৃত্যু শোক সইতে পরবে না ভেবে প্রথমে মাহিকে মায়ের মরদেহ দেখতে দেয়া হয়নি। স্বজনরা জানিয়েছেন,  কাঁদলে মাহির মন হালকা হতো। কিন্তু মায়ের মরদেহ দাফন পর্যন্ত একটুও কাঁদেনি। তবে জানাজার জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে শেষবার মায়ের মুখ দেখে মাহি। উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরে সেক্টরে গাউছুল আজম জামে মসজিদে জানাজাও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিল। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে আফসানাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে তানজিব বিন সুলতান মাহিও সেখানে ছিল। তবে সারাক্ষণই ছিল স্তব্দ ও নির্বিকার, কারো সঙ্গে কোন কথা বলেনি।    নেপালের ওই দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ জনের মরদেহ গত রবিবার দেশে ফিরিয়ে এনে আর্মি স্টেডিয়ামে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিন মাহি মাকে হাসপাতালে রেখে বাবার লাশ নিতে গিয়েছিল বনানীতে।    আফসানার ফুফাতো ভাই খন্দকার রেজাউল করিম জানান, মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে চুপ হয়ে আছে  মাহি ।একটুও কাঁদেনি। তবে কাঁদলে মন হালকা হতো। তিনি জানান, আবিদের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে  আফসানা কাঁদেননি, শক্ত হয়ে ছিলেন। মায়ের স্ট্রোকের সময় মাহি পাশে ছিল।   এ দিকে আফসানা খানমের মৃত্যুর খবর শুনে শুক্রবার বিকালে তাদের উত্তরার বাসায় যান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তানজিবের খবর নিয়েছেন। তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।   আফসানার আর এক ফুফাতো ভাই শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, স্ট্রোক করার দিন আফসানার সঙ্গে তার মাহি ঘুমাচ্ছিল। ওই বাসায় আমাদের এক খালা ছিলেন। ছেলেটি (মাহি)  প্রথমে বুঝতে পারেনি। ঘুম থেকে উঠে দেখে তার মা কোনো সাড়া দিচ্ছে না। পরে সে চিৎকার শুরু করে। চিৎকার শুনে অন্যরা এসে সবাইকে খবর দেয়। তাকে (আফসানা) প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা ফেরত দিলে আমরা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে নিয়ে যাই। বৃহস্পতিবার থেকে তার স্বাস্থ্যের অবস্থার আরও অবনতি শুরু হয়। শরীরে কোনও অর্গান কাজ করছিল না। সকালে চিকিৎসকরা আবার চেক করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   আমাদের একটু একা থাকতে দিন : শুক্রবার দুপুরে উত্তরার বাসায় মরদেহরে অপেক্ষায় থাকার সময় সাংবাদিকরা আবিদ-আফসানার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ এই দম্পতির একমাত্র সন্তান মাহিকে খুঁজতে থাকেন। পরিবারের সদস্যরা এ সময় শিশুটিকে লুকিয়ে রাখতেও বাধ্য হন। এ সময় পাইলট আবিদের ভাই প্রয়েসর ড. খুরশিদ মাহমুদ বলেন, ঘটনার পর থেকে কিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি তা শুধু আমরাই জানি। উই আর ভেরি মাচ শকড। আমাদের একটু একা থাকতে দিন। বিরক্ত করবেন না। প্লিজ প্লিজ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *