বাংলাদেশ

পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন অধিক জনসচেতনতা: পরিবেশ ও বন মন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় অধিক হারে জনসচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বর্তমান সরকার পরিবেশ ও উন্নয়ন ভাবনা একসাথে করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন চলমান রয়েছে তেমনি পরিবেশের উন্নয়ন করাও আমাদের লক্ষ্য।   বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইইউসিএন আয়াজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা তৈরির জন্য পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। পরিবেশের বিষয়টা স্থানীয় ব্যাপার নয়, এ সমস্যাটি বৈশ্বিক। তাই প্রত্যেক দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালন করা হয়। এবারের পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, এ স্লোগান যখন ঠিক করা হলো তখন নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি যে, প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা তৈরির প্রয়েজনীয়তা দেখা দিয়েছে।   পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার শুধু যে পরিবেশের ক্ষতি করছে তা নয়। এটি মানব দেহের জন্যও ব্যাপক ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পেটের পীড়া, হরমোনের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, এমন কী অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসারের মতো ভয়ঙ্কর রোগের জন্য দায়ী এই প্লাস্টিক সামগ্রী।   তিনি বলেন, আইসক্রিম কাপ, সিরাপের বোতল, পানির বোতল, খাবারের কন্টেনার এসব প্লাস্টিকের তৈরি নিত্য ব্যবহার্য জিনিসগুলো কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত তা আমরা বলতে পারি না।   আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া দেশে পলিইথিলিন বা পলিপ্রপাইলিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দ্যেশে পরিবহন ও ব্যবহার বন্ধ করেছে। তবে পরবর্তীতে পলি প্যাকেজিং-এর বিকল্প না থাকায় প্যাকেজিং বা মোড়ক তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। এ কারণে পলি প্যাকেজিং-এর সুযোগে পলিইথিলিন বা পলিপ্রপাইলিন ব্যাগ আবার দৃশ্যমান হয়েছে।   তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে পাটতন্তু থেকে প্রাপ্ত সেলুলোজ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে জৈব পঁচনশীল পলিব্যাগ ও মোড়ক প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশে উদ্ভাবিত জৈব পঁচনশীল পলিব্যাগ ও মোড়ক আর্ন্তজাতিক বাজারে ক্রমশঃ সহজলভ্য হওয়ায় সরকার এ ধরনের বায়ো-ব্যাগ ও বায়ো-প্যাকেজিং শিল্পকে উৎসাহ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।   অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইইউসিএন-এর চেয়ারপার্সন হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ, কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ রাকিবুল আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুর রব মোল্লা, উন্নয়ন অন্বেষার প্রধান নির্বাহী রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজোয়ানা হাসান প্রমুখ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *