রাজধানী

নজর কাড়ছে নান্দনিক প্যাভিলিয়ন


মেলার বিন্যাসে নতুনত্ব এসেছে, বেড়েছে পরিসর। পাঠকরা মেলায় এসে স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিনছেন বই। তবে মেলায় পাঠকদের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে প্রকাশনী সংস্থাগুলোর প্যাভিলিয়ন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বইমেলার নান্দনিকতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে প্যাভিলিয়নের সাজসজ্জা। বই কেনার পাশাপাশি এসব প্যাভিলিয়নের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ছিল সবার আগ্রহের কেন্দ্রে। এবার বেশ সুন্দর করে প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে অন্যপ্রকাশ, কথাপ্রকাশ, পাঞ্জেরি, তাম্রলিপি, অনিন্দ্যপ্রকাশ, মাওলা ব্রাদার্স, প্রথমা, জার্নিম্যান, বাংলা প্রকাশ প্রভৃতি প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। প্যাভিলিয়ন নেয়নি কিন্তু স্টলগুলোকে দৃষ্টিনন্দন রূপ দিয়েছে ইউপিএল, বাতিঘর, বটেশ্বর বর্ণন প্রভৃতি স্টল। তবে সবগুলো প্যাভিলিয়নের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্যাভিলিয়ন হয়েছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স ও মাওলা ব্রাদার্স। পাঞ্জেরী বইয়ের র্যাকে বই যেভাবে রাখা হয় সেভাবে প্যাভিলিয়নটি নির্মাণ করেছে। খুবই নান্দনিক একটি প্যাভিলিয়ন হয়েছে এটি। এদিকে বত্রিশ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যেন উঠিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের স্টলটির গায়ে বঙ্গবন্ধুর দোতলা বাড়ির ছবি এমনভাবে আঁকা হয়েছে মনে হচ্ছে যেন ৩২ নম্বরের বাড়িটির ক্ষুদ্র সংস্করণ মেলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্যাভিলিয়নের ডিজাইন প্রসঙ্গে অন্যপ্রকাশের অন্যতম প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বললেন, আমার সবসময় বইয়ের স্টলটিকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করতে চাই। এবার সে সুযোগটি আরো ভালভাবে কাজে লাগানো গেছে। হুমায়ূন আহমেদকে অবলম্বন করে নান্দনিকভাবে তৈরি করা হয়েছে তাদের প্যাভিলিয়নটি। তবে এবার থিম হিসাবে তারা বেছে নিয়েছেন কার্জন হলের নান্দনিক সৌন্দর্যকে। এদিকে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান বাতিঘর এবার তাদের স্টল সাজিয়েছে লালবাগ কেল্লার আদলে। এই স্টলটিও পাঠকের নজর কেড়েছে। তবে শিশুদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্টল সিসিমপুর। সেখানে সবসময় ভিড় লেগে রয়েছে খুদে পাঠকদের। নতুন বই: গতকাল গ্রন্থমেলায় এসেছে ১১১টি নতুন বই। এরমধ্যে ইন্তামিন প্রকাশন এনেছে অসীম সাহার ‘পাজর ভাঙার শব্দ’, অবসর এনেছে নির্মলেন্দু গুনের ‘একটি সন্তান সম্ভবা পাখির গল্প’, যুক্ত এনেছে করুণাময় গোস্বামির ‘লাহোরে রহিম খের’, আফসার ব্রাদার্স এনেছে ফারুক আহমেদের ‘কুয়াশায় ঢাকা স্বপ্ন’, আইন ও শালিশ কেন্দ্র এনেছে গবেষণা গ্রন্থ ‘শিশু ও শিশুর অধিকার’, এবং অনন্যা এনেছে মহাদেব সাহার ‘অনন্তের বাশি’। মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান:গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহীদ রণদা প্রসাদ সাহা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিভা মুত্সুদ্দি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রমণীমোহন দেবনাথ, হেনা সুলতানা এবং আজিজুর রহমান আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রফিকুল ইসলাম। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী নাদিরা বেগম, আজগর আলীম ও অনিমা মুক্তি গোমেজ। আজ মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘আ জ ম তকীয়ূল্লাহ : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। প্রকাশনা অনুষ্ঠান:সেলিম আজাদ চৌধুরীর উপন্যাস ‘কোন কুলে ভিড়ল তরী’ এবং  যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিয়ে ‘তেপান্তরে মাঠ পেরিয়ে’ ভ্রমণ কাহিনী দুটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হলো গতকাল। জাতীয় প্রেস ক্লাবে বই দু’টির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *