রাজধানী

ঢাকা শিশু পার্কে ঝুঁকিপূর্ণ রাইডে চড়ছে শিশুরা


ঝুঁকিপূর্ণ রাইড দিয়ে চলছে শাহবাগের ঢাকা শিশু পার্ক। মেয়াদউত্তীর্ণ সরকারি রাইডগুলো সচল রাখা হয়েছে জোড়াতালি দিয়ে। বছরের পর বছর ধরে রাইডের এমন বেহালদশা থাকলেও কর্তৃপক্ষের সেদিকে দৃষ্টি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। রাইডগুলো পুরনো হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৯৭৯ সালে ‘জিয়া শিশু পার্ক’ হিসেবে পাবলিক সেক্টরে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম শিশু পার্কটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সাল থেকে। এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পার্কে বর্তমানে ১২টি সরকারি খেলনা রয়েছে। যেখানে একটি খেলনা ট্রেন, একটি গোলাকার মেরি গো রাউন্ড রাইড ও একাধিক হুইল রাইড রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ৩টি খেলনা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ১২টি রাইডের অধিকাংশই বেশ পুরনো ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কারিগরি দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রায় সব ক’টি রাইডই। ১৯৭৯ সালে পার্ক চালুর সময় স্থাপিত রাইডগুলোর মেয়াদ ধরা হয়েছিল ১০ বছর। মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ায় জোড়াতালি দিয়ে সচল রাখা হয়েছে এগুলো। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত তিনটি রাইড ব্যবহারযোগ্য হলেও অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে উড়ন্ত এবং ঝুলন্ত খেলনাগুলো। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বিকার বলে লোকজন অভিযোগ করছেন। শিশুদের নিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে আসা আবু সাঈদ বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে এসেছি। তবে খেলনাগুলোর অবস্থা সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না। পার্কের প্রায় রাইডগুলোতে কোনো না কোনো ত্রুটি রয়েছে। শিশুদের বসার আসনের সামনের গ্লাসের অধিকাংশ ভাঙা। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উঠতে বেশ ভয় লাগছে। এজন্য ওদের কিছু খাবার খাইয়ে পার্ক ঘুরিয়ে দেখিয়ে চলে যাচ্ছি।’ দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা পার্কে সরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্নতমানের খেলনার ব্যবস্থা করা হোক। নতুন খেলনা সংযোজনের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হলে শিশুরা ফিরে পাবে আনন্দের জগত্। এতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে ডিএসসিসির যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই শিশু পার্কের বেহালদশা। অনেক পুরনো যন্ত্রাংশ দিয়ে কোনো রকমে খেলনাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।’ তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন বলে জানান তিনি। সরেজমিন দেখা যায়, যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ায় ‘রোমাঞ্চ চক্র’ খেলনাটি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। ‘উড়ন্ত বিমান’ খেলনার সিটবেল্ট নেই। কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই ঝুলন্ত তারে ঘুরছে শিশুরা। ‘ব্যাটারি কার’ খেলনাগুলো অত্যন্ত জীর্ণশীর্ণ। ‘ফুলদানি আমেজ’ খেলনার বসার সিট, নিচের মেঝে ও দড়িগুলোর বেহালদশা। ‘এফ-৬ জঙ্গি বিমান’ অত্যন্ত নোংরা। এছাড়া বিস্ময়চক্র, আনন্দ ঘূর্ণি, ঝুলন্ত চেয়ার, লম্ফঝম্ফ এবং রেলগাড়িরও করুণ দশা।  শিশু পার্কে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে সাত হাজারের বেশি দর্শনার্থী আসলেও বিভিন্ন উত্সবে দর্শনার্থী বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এদিকে পার্কের অভ্যন্তরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ও ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান দুটি সংরক্ষণ, শিশু পার্ক এলাকা দৃষ্টিনন্দন, ল্যান্ড স্কেপিং পূর্বক একীভূতকরণের লক্ষ্যে ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ শীর্ষক তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মূল নকশা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। গত ২০ নভেম্বর এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দেওয়া ভাষণের মঞ্চটি পুনর্নির্মাণ করতে প্রয়োজনে শিশু পার্ক অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যাবে বলেও উচ্চ আদালত নির্দেশনা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *