লাইফস্টাইল

ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ : মান যাচাইয়ে সমাধান হোক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি

হঠাৎ করে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জীবনে। শুধু রাজধানীই নয়, সারাদেশেই এখন এ অবস্থা। ট্রান্সফরমার পুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাসার বৈদ্যুতিক সব যন্ত্রাংশ।    বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ মাসে সারাদেশে ৪ হাজার ৪১৩টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে। এপ্রিলে বিকল হয়েছে ৬ হাজার ৭৩৮টি। মে মাসে ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার ধারা অব্যাহত ছিল।    ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শুধু জানমালের ক্ষতিই নয়, রাষ্ট্রও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।  ২০১০ সালের পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। ধারণা করা হয় এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ থেকে।     বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার ট্রান্সফরমারের চাহিদা রয়েছে। এক সময় প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমারের অধিকাংশ আমদানি করা হত। কিন্তু বর্তমানে বিতরণ লাইনের ট্রান্সফরমারের ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান। দেশীয় একাধিক প্রতিষ্ঠান এখন বিভিন্ন ধরনের ট্রান্সফরমার তৈরি করছে। এটা দেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ব্যাপার। আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অনেক সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে এ শিল্পে। কিন্তু এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের ট্রান্সফরমার উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান উভয়কেই নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ট্রান্সফরমারের অসাধু কিছু উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকের জন্য দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পুরো দেশ। ট্রান্সফরমার আমদানি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে সর্বক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাইসহ প্রয়োজনীয় টেস্টগুলো করা হচ্ছে না।  ট্রান্সফরমার আমদানি বা উৎপাদন থেকে শুরু করে ইন্সটল করা পর্যন্ত অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। অথচ নিরাপত্তার বিষয় প্রয়োজনীয় মনোযোগ না দেয়া এবং দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণ ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে।    ট্রান্সফরমার আমদানি কিংবা উৎপাদনের পর অবশ্যই নিয়মিত কিছু টেস্ট করানো উচিৎ। এক্ষেত্রে, সাধারণত তিন ধরনের টেস্ট করা হয়। টাইপ টেস্ট, রুটিন টেস্ট ও স্পেশাল টেস্ট। আমাদের দেশে কিছু প্রতিষ্ঠান করলেও অনেক আমদানিকারক এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সফরমারের টাইপ টেস্ট না করেই ইনস্টল করে দেন। যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।    টাইপ টেস্ট : ট্রান্সফরমারের টাইপ টেস্ট হচ্ছে এক ধরনের প্রোটোটাইপ টেস্ট। টাইপ টেস্ট নিশ্চিত করে, ট্রান্সফরমারের উৎপাদনে স্ট্যান্ডার্ড সকল মান বজায় রাখা হয়েছে।    রুটিন টেস্ট: ট্রান্সফরমারের প্রতিটি আলাদা ইউনিটের পারফরমেন্স নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রুটিন টেস্ট করা হয়। টেম্পারেচার রাইজ টেস্ট ও ভ্যাকুয়াম টেস্ট বাদে সব ধরনের টাইপ টেস্টই রুটিন টেস্টের অন্তর্ভুক্ত।    স্পেশাল টেস্ট: বিশেষ টেস্ট করা হয় ট্রান্সফরমারের কার্যক্রম ও এর রক্ষণাবেক্ষণ সহজ করার ক্ষেত্রে স্পেশাল টেস্টগুলো করা হয়। রুটিন টেস্ট ও টাইপ টেস্টের বাইরে ট্রান্সফরমার সুরক্ষায় কার্যকারিতা নিশ্চিত করে স্পেশাল টেস্টগুলো।    উপরোক্ত টেস্টগুলোর মাধ্যমে ট্রান্সফরমারের মান যাচাই করা সম্ভব। সরকারি পর্যায়ে উপরোক্ত টেস্ট করানোসহ অন্যান্য সবরকম নিয়ম মেনেই ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। সমস্যা হচ্ছে বেসরকারি পর্যায়ে সরকারের নির্দিষ্ট পরিপত্র না মেনে ট্রান্সফরমারের যত্রতত্র বিক্রি ও ব্যবহার।    বর্ণিত টেস্টগুলো করিয়ে মানসম্পন্ন ট্রান্সফরমার ইন্সটল করা হলে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের দুর্ঘটনা অনেকখানিই কমে যাবে। এ সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে প্রয়োজন সরকারের সুদৃষ্টি।  তাহলে দেশ ও দেশের জনগণ মুক্তি পাবে অযাচিত আর্থিক ক্ষতি ও কষ্টের হাত থেকে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *