বাংলাদেশ

‘জনগণ চাইলে পরীক্ষায় এমসিকিউ থাকবে না’


পরীক্ষা পদ্ধতিতে জনগণ চাইলে এমসিকিউ রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার গণভবনে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও চাই না এভাবে প্রশ্ন ফাঁস হোক, বদনাম হোক। আর জনমত গড়ে তুললে আমরা পরীক্ষায় টিক (এমসিকিউ) মারাটা বন্ধ করে দেব।    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এটা কোন নতুন কিছু না। এটা কিন্তু সব সময় যুগ যুগ ধরেই চলে এবং কখনো প্রচার হয়, কখনো প্রচার হয় না- এটাই হল বাস্তবতা। তারপরও এবারে যে হচ্ছে এখানে সমস্যা হয়ে গেছে প্রযুক্তির ব্যবহার। আর এই প্রযুক্তি সুযোগ করে দিয়েছি, আবার সমস্যাও সৃষ্টি করে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যে প্রশ্নগুলি ফাঁস হয়েছে এটা কতদিন আগে ফাঁস হয়েছে? হয় কুড়ি কিংবা ৩০ মিনিট আগে। প্রশ্নকর্তার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটা প্রশ্ন আমার আছে- যখন প্রশ্নপত্রগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পর সেগুলো খোলা হয়। সেটা বিতরণ করার জন্য খোলা হয়। এখন যদি সেখানে চট করে মোবাইল ফোনে একটা ফটো নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়, সেটা আপনি কি করবেন? এই যে কুড়ি মিনিট, আধাঘণ্টা বা ধরলাম এক ঘণ্টা। দুই ঘণ্টা আগে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এতো বেশি ট্যালেন্টটেড কে আছে?    তিনি বলেন, একঘণ্টা আগে সাধারণত পরীক্ষার হলে যাওয়ার জন্য ছাত্ররা প্রস্তুতি নেয়। হয় পথে থাকে বা পরীক্ষা কেন্দ্রে যায়। এই যে আধাঘণ্টা আগে বা বিশ মিনিট আগে প্রশ্ন দেখার পর ওই প্রশ্ন অনুযায়ী বই খুলে সেই প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করে সেটাকে স্মরণ করে খাতায় খেলার মতো এই রকম ট্যালেন্টেড কোন ছাত্র আছে আমাকে একটু বলবেন?   প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রশ্নের উত্তরটা আমিও খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না। যে এতো ট্যালেন্টেড কে আছে যে একবার দেখেই সব উত্তরগুলি মনে করে ফটাফট লিখে দিলো। একটা আছে যেটা শুধু টিক মারতে হয়। চিন্তা করছি এতো ট্যালেন্ট বা এরকম ফটোজেনিক মেমোরি কার আছে? সে একবার প্রশ্ন দেখল আর ওই সময়ের মধ্যে বই খুঁজে ওতোগুলো উত্তরগুলো বের করে নেওয়া আর সেটাকে মাথার মধ্যে নিয়ে নেওয়া আর সেটাকে লিখে ফেলে দেওয়া এটা কেউ পারবে কি না?     তিনি বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ হলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে তা নয়। তাহলে কি ডিজিটাল সিস্টেম টোটালি ব্লক করে দিতে হবে? এখন তো আমাদের সব কিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে। বন্ধ করে দিলে কি অবস্থাটা হবে একবার ভেবে দেখুন। মন্ত্রী কিংবা সচিব কি নিজেরা প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে গেছে? কিছু নিশ্চয় আছে যারা এভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ, আপনারা দয়া করে অন্তত একটা বের করে দেন, সঙ্গে সঙ্গে আমরা শাস্তি দেব।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *