বাণিজ্য

চীনের দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ডিএসই শেয়ার হস্তান্তর কাল

কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান সেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়ামের কাছে আগামী কাল মঙ্গলবার শেয়ার হস্তান্তর করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এই শেয়ার হস্তান্তরের আগের দিন অর্থাৎ আজ সোমবার ডিএসইর শেয়ার পেতে অর্থ পরিশোধ করবে চীনা জোটটি।   ডিএসইত সূত্রে জানা যায়, অর্থ পরিশোধ এবং ডিএসইর শেয়ার নিতে চীনা জোটটির ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে পৌছেছেন। আজ ডিএসইর শেয়ার পেতে প্রায় সাড়ে নয়শ’ কোটি টাকা পরিশোধ করবে জোটটি। এজন্য বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার বোর্ড সভা করবে ডিএসই।   সকালে অনুষ্ঠিত ওই বোর্ড সভায় জোটটির একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন, যিনি পরবর্তীতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবেন। বোর্ড সভার মাধ্যমেই শেয়ার হস্তান্তরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।   ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোটকে নিটা অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয়। কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে গত ১৪ মে চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তি সই করে ডিএসই। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোট ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনবে। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ২১ টাকা দরে মোট ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা পরিশোধ করবে সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোট। ডিএসইর শেয়ারের বিপরীতে চীনা জোটের দেওয়া অর্থ ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের ভাগ করে দেওয়া হবে।   ডিএসইর কর্মকর্তারা জানান, সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্যায়ে। চীনা জোটটিকে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চলতি বছরের ৩ মে অনুমোদন দেয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। অবশ্য এ অনুমোদনের সঙ্গে বেশকিছু শর্তও জুড়ে দেয় বিএসইসি।    এর মধ্যে রয়েছে- কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সকল কার্যক্রম সিকিউরিটিজ আইন ও দেশের প্রযোজ্য অন্যান্য আইনসহ এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন ২০১৩ এবং ডিএসই’র ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী পরিপালন করতে হবে। চুক্তির বাস্তাবায়ন প্রক্রিয়া চুক্তি সইর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। কমিশনের পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত চুক্তির শর্তাবলি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন করা যাবে না।   উল্লেখ্য, এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি কৌশলগত অংশীদারদের প্রস্তাবসংবলিত টেন্ডার আহ্বান করে ডিএসই। দরপত্র প্রক্রিয়ায় কৌশলগত অংশীদারের জন্য সংরক্ষিত ডিএসইর ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ শেয়ারের এক-চতুর্থাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনতে দুটি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব জমা হয়।   এর মধ্যে শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইর প্রতি শেয়ারের জন্য ২২ টাকা হারে ৯৯২ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব করে। এর বাইরে তারা ডিএসইকে বিনামূল্যে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, যার মূল্য উল্লেখ করা হয় ৩০৮ কোটি টাকা।    তবে মধ্যবর্তী সময়ে সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেওয়ায় ডিএসইর প্রতিটি শেয়ারের ভ্যালুয়েশন ১ টাকা কমে যায়, যা চূড়ান্ত শেয়ার ক্রয় চুক্তিতে (এসপিএ) সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে শেয়ার প্রতি ২১ টাকা হিসাবে ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৬২৫ টাকা পাবে ডিএসই। চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তায় মধ্যে ডিএসইর ট্রেডিং ও সার্ভিল্যান্স সিস্টেমের আধুনিকায়ন, বিজনেস প্রসেস ম্যানেজমেন্ট (বিপিএম) সিস্টেম কনসাল্টিং প্ল্যান, বন্ডের টেন্ডার সিস্টেমের জন্য কনসাল্টিং সার্ভিস, ইনফরমেশন ডিসক্লোজার সিস্টেমের জন্য কনসাল্টিং সিস্টেম প্ল্যান, ডাটা সেন্টার ও কো-লোকেশনের জন্য কনসাল্টিং সার্ভিস প্ল্যান, এফডিইপি ও ফিন্যান্সিয়াল ক্লাউড টেকনোলজি স্থানান্তর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।    এসব কারিগরি প্রযুক্তির জন্য ১০ বছরের লাইসেন্স এবং তিন বছরের ট্রেনিং ও কনসাল্টিং সার্ভিস ফ্রি দেবে চীনা কনসোর্টিয়াম। এর বাইরে তারা আরো বেশকিছু নতুন পণ্য প্রচলন ও বাজার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *