প্রবাস

গ্রিসে বাংলাদেশি খাবার জনপ্রিয়করণে দূতাবাসের পাশে রেস্টুরেন্টের ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশি খাবারকে জনপ্রিয় ব্রান্ড হিসাবে পরিচিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস গ্রিস বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রসনা কূটনীতি’। দূতাবাসের এ উদ্যোগ সফল করতে এগিয়ে এসেছে গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা।   ‘রসনা কূটনীতি’ সফল করতে রেস্টুরেন্টের নাম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে গ্রিসের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। এ উপলক্ষে গত ১৮ এপ্রিল ২০১৮ এথেন্সে ‘রসনা কূটনীতি : বিশ্ব জুড়ে বাংলাদেশি খাবার’  শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি-ইন-গ্রিসের সভাপতি হাজী মো. আব্দুল কুদ্দুস। সভায় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারবর্গ এবং গ্রিসে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক, আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   এ বিষয়ে বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দিন দূতাবাসের ‘রসনা কূটনীতি’ কে সফল করতে এগিয়ে আসার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত সভা আয়োজনের জন্য হাউস অব ফ্লেভার্স বাংলাদেশি ও ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের কর্ণধর রফিকুল আলম চুন্নু এবং মিসেস মিলি আলমকে ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব পরিমণ্ডলে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি খাবারকে একটি জনপ্রিয় ব্রান্ড হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করতে আমাদের  এক যোগে কাজ করতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে দূতাবাসের রসনা কূটনীতির কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত রাখায় তিনি প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান।   রাষ্ট্রদূত আরো বলেন যে, বিদেশের মাটিতে এক একটি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট এক একটি দূতাবাস, একটি দূতাবাসে প্রতিদিন যে পরিমাণ বিদেশি আসে, তার চেয়ে বেশি বিদেশি আসে একটি রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা রসনা কূটনীতির উদ্যোগের সাথে এগিয়ে এলে একদিকে যেমন বাংলাদেশি খাবার জনপ্রিয় হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল ভাবমূর্তি গড়ে উঠবে। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আয়োজক মিসেস মিলি আলম । তিনি বলেন দূতাবাসের রসনা কূটনীতির আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি রেস্টুরেন্টের নামে বাংলাদেশ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তিনি দূতাবাসকে ধন্যবাদ জনান।   এরপর আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কমিউনিটি-ইন-গ্রিসের সভাপতি হাজী আব্দুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতারা। আলোচনায় তারা রসনা কূটনীতি সফল করতে দূতাবাস এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   উল্লেখ্য, এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ২৬ অক্টোবর গত ২০১৭ তারিখে রসনা কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্রান্ডিং: প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্পৃক্তকরণ’ শীর্ষক একটি কর্মশালা আয়োজন করে। দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় এথেন্সে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট মালিকরা অংশগ্রহণ করেন। উক্ত কর্মশালায় বাংলাদেশি খাবার জনপ্রিয় করার জন্য রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে দূতাবাস থেকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যেÑবাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যারা অন্যদেশের নাম ব্যবহার করে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করছেন, তাদের রেস্টুরেন্টের নাম পরির্বতন করে বাংলা/বাংলাদেশ নাম ব্যবহার করবেন, প্রতিটি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের মেন্যুতে দেশীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করবেন, রেস্টুরেন্টের সাজসজ্জায় বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে, বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট মালিকরা বিভিন্ন খাদ্য মেলায় অংশগ্রহণ করবেন, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশি অধ্যুষিত নয়, গ্রিক অধ্যুষিত অঞ্চলেও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেবেন এবং বিদেশিদের বাংলাদেশি খাবারের সাথে পরিচিত করানোর লক্ষ্যে সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *