রাজনীতি

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই: ফখরুল

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সবাই বিক্ষোভে ফেটে পড়ুন, উঠে দাঁড়ান, জাগ্রত হউন। আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন। গণতন্ত্রের মাতাকে মুক্ত করতে আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই। শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশনেত্রীকে কারামুক্ত করবো এবং আওয়ামী লীগের পতন ঘটাবো আমরা। নেতা-কর্মীদের জাগ্রত হওয়ার ও রাজপথে নামার আহ্বান জানান। শনিবার বিকেলে রাজধানী ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান এনাম আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীর উত্তম, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ফজলুর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল সহ বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।   মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মাতা, আমাদের মা আজ কারাগারে বন্দী। দেশে গণতন্ত্র যতটুকু অর্জন হয়েছিল তা আজ ভূলুণ্ঠিত। যিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর সংগ্রাম করেছিলেন, গৃহবধূ হয়েও দেশের পথে-প্রান্তরে গণতন্ত্রের জন্য দিনের পর দিন ছুটে বেরিয়েছেন সেই মা’কে আজ স্বৈরাচারি সরকার কারাবন্দি করেছে। শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা এই শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ভোটারবিহীন সরকারের, একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটাবো। বাধ্য করবো দেশনেত্রীসহ আমাদের সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে। দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে, সুযোগ পেলে এই সরকারকে চিরতরে উৎখাত করবে।   মির্জা ফখরুল সারাদিন মিথ্যা কথা বলেন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ফখরুল বলেন, আমাদের অবৈধ সরকারের, অবৈধ প্রধানমন্ত্রী নিজে যেটা করেন তিনি মনে করেন সেটা অন্যরাও করছে। আমাকে অনেকে বলেন এসব কথার উত্তর দেন না কেনো?  আমি বলেছি এগুলোর উত্তর দেওয়া আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বাধে, আমাদের রুচিতে বাধে। রাজনৈতিক শিষ্টাচারে বাধে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলুন যে দেশের মানুষের জন্য কী করেছেন? দেশের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছেন, গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছেন-এটুকুইতো।   বিএনপির এই নীতিনির্ধারক দলটিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। অথচ তারা (আ. লীগ) সারাদেশে সরকারি খরচে ভোট চেয়ে জনগণকে জোর করে ভোটের ওয়াদা করাচ্ছেন। এটা কেমন গণতন্ত্র?   বিএনপির তিন এজেন্ডা: মওদুদ মওদুদ বলেন, আমাদের তিনটি মূল এজেন্ডা। প্রথমটি হলো:  বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমরা নেত্রীকে ফিরে পেতে চাই। তাই যত কলাকৌশল করুন, ষড়যন্ত্র করুন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যতই টেনে ধরুন। তাকে আমরা মুক্ত করে আনব। এজন্য শুধু আইনি লড়াই নয়, জনমত তৈরি করতে হবে। আমাদের আন্দোলন করতে হবে। তাহলে তিনি মুক্ত হয়ে আসবেন। দ্বিতীয়টি হলো: নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এরজন্য যে আন্দোলন চলছে এটা চলবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে। তৃতীয় এজেন্ডা হলো: আমরা গণতান্ত্রিক দল। তাই গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। এজন্য আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।তাই আমাদের এখন থেকেই সবাইকে কাজ শুরু করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক ব্যাপার। যে কোনো সময় নির্বাচন হতে পারে।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *