সংস্কৃতি

‘কালি ও কলম’ পুরস্কার পেলেন ছয় তরুণ কবি-লেখক


কবিতা ও কথাসাহিত্যে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখায় ছয় তরুণ সাহিত্যিক পেলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক’ পুরস্কার। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে দশমবারের মতো এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ গবেষণা ও নাটক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্য এবং শিশু-কিশোর সাহিত্য— এই পাঁচটি বিভাগে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ বছর কবিতায় যৌথভাবে ‘জুমজুয়াড়ি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য মিজানুর রহমান বেলাল ও ‘নিশিন্দা পাতার ঘ্রাণ’ কাব্যগ্রন্থের জন্য হোসনে আরা জাহান, কথাসাহিত্যে ‘এই বেশ আতঙ্কে আছি’ গ্রন্থের জন্য তাপস রায়, প্রবন্ধ, গবেষণা ও নাটকে ‘নৃত্যকী’ গ্রন্থের জন্য আলতাফ শাহনেওয়াজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের ‘অজানা ভাষ্য’ গ্রন্থের জন্য মামুন সিদ্দিকী এবং শিশু-কিশোর সাহিত্য বিভাগে ‘হরিপদ ও গেলিয়েন’ গ্রন্থের জন্য রাজীব হাসান ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক’ পুরস্কারটি পেয়েছেন। প্রত্যেককে এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়। পুরস্কার বিজয়ীরা পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন রবীন্দ্র গবেষক ও প্রাবন্ধিক মার্টিন ক্যামশন ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সমাজে আলোর পথে জঞ্জাল রয়ে গেছে এখনো। রাজনীতিকরা ক্ষমতা ও অর্থের সমীকরণ মিলিয়ে চলে। কবি সাহিত্যিকরা মানুষের হূদয় বুঝে চলেন, তারা ফুলের মতো, আমি ফুলের বাগানে এসেছি। ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও সাহিত্যিক’ পুরস্কারটি ‘কখনো অপাত্রে দান করা হয়নি’ উল্লেখ করে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, একটি সত্যের মুখোমুখি হতে চাই, লেখক সাহিত্যিকের কাছে পাঠকের কী প্রত্যাশা? প্রত্যাশা দুটো, পাঠক সাহিত্যের মধ্যে সৌন্দর্য ও সত্য খোঁজ করেন।  আর এ দুটোর মেলবন্ধন সাহিত্যিকের প্রধান কাজ। এ থেকে বিচ্যুত হলে তিনি আর সাহিত্যিকের পদবাচ্য থাকেন না।  আমরা আশা করব, আজকের তরুণ লেখকরা সৌন্দর্য ও সত্যের মেলবন্ধন ঘটাবেন। অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যে কোনো পুরস্কার আনন্দদায়ক, সে সঙ্গে দায়িত্ববোধ তৈরি করে। আজকে যারা পুরস্কার পেল, তাদের কাছ থেকে আরো বেশি ভালো লেখা প্রত্যাশা করব। মার্টিন ক্যামশন বলেন, লেখালেখির জগত্টা ভিন্ন। এ জগতে সবাই আসতে চায় না। এই তরুণদের অভিনন্দন তারা লেখালেখির জীবন বেছে নিয়েছেন। তারা লেখার জগতে এসে সমাজের উপকার করছেন, সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা কালি ও কলম বাংলাদেশের নবীন কবি ও লেখকদের সাহিত্য চর্চা এবং সাধনাকে গতিশীল করবার উদ্দেশ্যে ২০০৮ সাল থেকে ‘তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ প্রদান করে আসছে। এ পর্যন্ত ৩৯ জন কবি ও লেখক এ পুরস্কার অর্জন করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন লাইসা আহমেদ লিসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *