বাংলাদেশ

ইজতেমায় যাবেন না, দিল্লি ফিরে যাচ্ছেন মাওলানা সাদ

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেবেন না। কাকরাইল মসজিদ থেকেই  সুবিধাজনক সময়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে চলে যাবেন। দু’পক্ষই এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।    বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দুটি পক্ষের দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ্য, শুক্রবার টঙ্গীর তুরাগ নদীর পারে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে। গত বুধবার দুপুরে তাবলিগ জামাতের এক পক্ষের বিক্ষোভের মধ্যে ঢাকা পৌঁছানোর পর থেকে মাওলানা সাদ অবস্থান করছেন বাংলাদেশে তাবলিগের কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র ঢাকার কাকরাইল মসজিদে।    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাদ যে কদিন বাংলাদেশে থাকবেন, কাকরাইল মসজিদেই থাকবেন বলে বৈঠকে ঠিক করা হয়েছে।    আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা যথাসময়ে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে হবে। যাদের নিয়ে বিতর্ক ছিল তাদের নিয়ে একটা সমঝোতায় তারা এসেছেন। ইজতেমার বিষয়ে সরকার কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি, এবারো করবে না। ইজতেমার নিরাপত্তায় সব ধরনের সহযোগিতা বরাবরের মতো এবারো দেয়া হবে।   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আশা করি এই সিদ্ধান্তের পর থেকে আর কেউ সড়কে নামবেন না। সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে হবে।    এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী।    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই বৈঠকে গুলশান জামে মসজিদের খতিব ও যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নেতৃত্ব দেন। এতে তাবলিগ জামাতের ১১ সদস্যের শুরা সদস্যের প্রায় সবাই অংশ নেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অন্তত দু’জন অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ আব্দুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে বেফাকের ভাইস প্রেসিডেন্ট  মাওলানা আশরাফ আলী, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মাহফুজুল হক, গাজীপুরের কাপাসিয়ার দেওনা পীর সাহেব অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ছিলেন।   মাওলানা সা’দের পক্ষে  ছিলেন বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্য মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফ ইসলামের নেতৃত্বে তিন জন মুরব্বি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।   প্রসঙ্গত, তাবলিগ জামাতের আয়োজনে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিবছর উপমহাদেশে মুসলিমদের বৃহৎ জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তাবলিগের লোকজন বরাবরই শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী প্রচার করে আসছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাবলিগের  দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে হয়েছে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *