রাজনীতি

আন্দোলনই আমাদের একমাত্র পথ: নজরুল

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দলের নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেটি হতে দেবে না। তাই গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়েই বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এখন সামনে আন্দোলনই আমাদের একমাত্র পথ। আন্দোলনে বেগম জিয়ার মুক্তি হলে আইনের কি দরকার? খালেদা জিয়ার মুক্তির ওপর নির্ভর করছে আমরা আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো কি না।    রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   নজরুল ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যেও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাসের পর মাস নেতাকর্মীদের কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। নিম্ন আদালতে জামিন দিতে পারবে না এই কথাটা বলার জন্য যে শুনানি তার জন্যও ছয় মাস আট মাস পর তারিখ দেয়া হয়। শুনানির আগেই আমাদের নেতাকর্মীরা মাসের পর মাস জেল খাটছেন। আর নানা ধরনের খরচ তো আছেই।   তিনি বলেন, এতো নিপীড়ন-নির্যাতন তো মুক্তিযুদ্ধের আগেও হয়নি। তার পরেও আমরা লড়াই করেছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কারণ সেই সময়ও আমার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। আমরা সেই গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতেই লড়াই করেছিলাম।   শেয়ার মার্কেট লুট হয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম বলেন, আজকে শেয়ার মার্কেট লুট হয়ে যাচ্ছে, ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট তৈরিতে দুর্নীতির ছড়াছড়ি। পত্রপত্রিকায় ছাপা হয় বাংলাদেশের এক কিলো মিটার রাস্তা তৈরি করতে যত ব্যয় হয় আশেপাশের কোনও দেশে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কেও এত খরচ হয় না। বাজেট বাড়লেও দুই চার কোটি টাকা না শত শত কোটি টাকা বাড়ে। সুইস ব্যাংকে লাখ লাখ কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে। এতো লেখালেখি হচ্ছে সরকার কেন অনুসন্ধান করে না? কারণ অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে, যারা টাকা পাঠায় তারা ক্ষমতাসীন দলের লোক।    নেতাকর্মীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রয়োজন। যাদের বয়স আছে, সাহস আছে তারা প্রস্তুতি নিন। শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রিক আন্দোলনই আমাদের পথ। এতে আমরা সারাদেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করবো।    মজিবুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সভাপতি ফরিদা মনি, সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ডা. কাজী মনিরুজ্জাম মনির প্রমুখ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *